অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে সেরা স্ট্যাটাস, উক্তি ও ক্যাপশন
জীবনে চলতে গিয়ে আমরা নানা রঙের মানুষ দেখি। কেউ কেউ উপকার নিয়ে নিমেষেই ভুলে যায়, আবার কেউ বিপদের দিনে পিঠটান দেয়। এদের অবহেলা মনের কোণে গভীর দাগ কাটে। মনের সেই চাপা কষ্টগুলো প্রকাশের জন্যই আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন, যা আপনার অব্যক্ত অনুভূতিগুলোকে শব্দের রূপ দেবে।
অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে উক্তি
জীবনের পথে যারা আপনার উপকারের প্রতিদান অবহেলায় দিয়েছে, তাদের স্বরূপ উন্মোচনে এই উক্তিগুলো অব্যর্থ। মনীষীদের কথা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো হয়েছে এই সেগমেন্টটি।
উপকার করে প্রতিদান চাওয়া বোকামি, কারণ সবাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শিক্ষা নিয়ে জন্মায় না।
যাকে তুমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে, দিনশেষে সেই তোমাকে বুঝিয়ে দেবে তুমি তার কাছে কতটা অপ্রয়োজনীয়।
মানুষের রূপ বদলাতে সময় লাগে না, ঠিক যেমন অকৃতজ্ঞরা উপকার নেওয়ার পর নাম ভুলে যায়।
স্বার্থপররা কখনও কারো আপন হতে পারে না, তারা কেবল সুসময়ের বন্ধু সেজে পাশে থাকে।
পৃথিবীর সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র হলো অকৃতজ্ঞ মানুষের কথা, যা মুহূর্তেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।
অকৃতজ্ঞতা হলো মনের দৈন্যতা, যা একজন মানুষকে ভেতর থেকে ছোট করে দেয়।
কুকুরের পেটে যেমন ঘি হজম হয় না, ঠিক তেমনি নিচু মানসিকতার মানুষের পেটে উপকার হজম হয় না।
ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার খেসারত দিতে হয় নিজের চোখের জল দিয়ে, আর অকৃতজ্ঞরা সেটাকে দুর্বলতা ভাবে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে বড় কলিজা লাগে, যা স্বার্থপরদের বুকে কখনোই থাকে না।
আজকের দিনে কারো উপকার করা আর বালিতে নাম লেখা একই বিষয়, বাতাস এলেই সব মুছে যায়।
অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস
ফেসবুক এখন মনের ভাব প্রকাশের খোলা জানালা। যারা আপনার আবেগের মূল্য দেয়নি, তাদের উদ্দেশ্য করে এমন কিছু স্ট্যাটাস দিন যেন তারা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখতে পায়।
বিপদের সময় যাদের ছায়া হয়ে পাশে ছিলাম, সুসময়ে তারা আজ আমাকে চিনতেই পারে না। আধুনিক যুগের নিয়ম বোধহয় এটাই, কাজ ফুরালে পরিচয়ও ফুরিয়ে যায়।
স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে মানুষের কথা বলার ধরনও বদলে যায়। অকৃতজ্ঞরা আসলে চিনে নেয় তাদের আসল ঠিকানা, আমাদের হৃদয় নয়।
যাদের জন্য এক সময় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, আজ তারাই আমাকে স্বার্থপরের তকমা দিচ্ছে। অথচ তারাই আমার ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ বড় গলায় কথা বলছে।
মানুষ চিনতে ভুল করিনি, শুধু ভুল সময়ে সঠিক মানুষের খোঁজে ছিলাম। অকৃতজ্ঞদের ভিড়ে কৃতজ্ঞ মানুষ খুঁজে পাওয়া খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার মতোই কঠিন।
এক সময় ভাবতাম মানুষ বদলায়, এখন দেখি মানুষ বদলায় না, শুধু মুখোশটা খুলে পড়ে যায়। অকৃতজ্ঞদের আসল চেহারাটা বড্ড কুৎসিত।
নিজের প্রয়োজনে যারা পায়ে ধরে, আর প্রয়োজন মিটলে চিনে না—এরাই সমাজের সবচেয়ে বড় অভিনেতা। এদের থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অতিরিক্ত সরলতা এখন পাপ। যার জন্য আপনি জান দিয়ে দেবেন, সে আপনার জান নেওয়ার ব্যবস্থা করতে দুবার ভাববে না।
উপকার করার পর আমি ভুলে যাই, কিন্তু কষ্ট লাগে যখন দেখি যার উপকার করলাম সে আমাকেই বাশ দেওয়ার প্ল্যান করছে।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখা আর ফুটো পকেটে টাকা রাখা একই কথা। দিনশেষে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
কিছু মানুষ আছে যারা উপকারের কথা মনে রাখে না, কিন্তু সামান্য ভুলের কথা আজীবন মনে গেঁথে রাখে। এদের নামই অকৃতজ্ঞ।
অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে ক্যাপশন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির সাথে বা ছোট নোটে যারা মনের ঝাল মেটাতে চান, তাদের জন্য এই শর্ট ও স্যাভেজ ক্যাপশনগুলো। একদম সোজাসাপ্টা ও কড়া জবাব।
উপকার করলে বাড়ে, তবে সেটা কেবল অহংকার, কৃতজ্ঞতা নয়।
চেনা মানুষ অচেনা হতে সময় নেয় মাত্র এক সেকেন্ড।
বিষের চেয়েও বিষাক্ত হলো অকৃতজ্ঞ মানুষের মিষ্টি কথা।
স্বার্থের টানে কাছে আসা মানুষগুলোই সবার আগে দূরে সরে যায়।
কাজ শেষে যে ভোলে নাম, সে তো আসল বেঈমান।
অকৃতজ্ঞতা একটি রোগ, আর এর কোনো চিকিৎসা নেই।
মানুষ বেইমান হতে পারে, কিন্তু সময় কখনও বেইমানি করে না।
মুখোশধারী মানুষের ভিড়ে আসল মানুষ চেনা দায়।
উপকার স্বীকার করা তো দূরের কথা, এরা উল্টো বাঁশ দিতে ওস্তাদ।
আমার নীরবতাই অকৃতজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে বড় চড়।
অকৃতজ্ঞ মানুষ সম্পর্কে কোরআনের আয়াত
মহান আল্লাহ অকৃতজ্ঞতাকে ভীষণ অপছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে অকৃতজ্ঞ বান্দাদের জন্য কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এখানে কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো যা আমাদের কৃতজ্ঞ হতে শেখাবে।
যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। (সূরা ইব্রাহিম: ৭)
নিশ্চয়ই মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ। (সূরা আল-আদিয়াত: ৬)
আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুঠাম করেছেন। অথচ সে যখন তার রবের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তখন সে প্রকাশ্য অকৃতজ্ঞ। (সূরা ইয়াসিন: ৭৭)
আমি মানুষকে পথ দেখিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে। (সূরা ইনসান: ৩)
মানুষের মধ্যে অতি অল্পসংখ্যকই আমার কৃতজ্ঞ বান্দা। (সূরা সাবা: ১৩)
অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে হাদিস
নবীজি (সা.) কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে ঈমানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাদিস শরীফে অকৃতজ্ঞদের বিষয়ে কী বলা হয়েছে, তা জেনে নেওয়া যাক।
যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না। (সুনানে আবু দাউদ)
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের মধ্যে একজন হলো—যে দান করে বা উপকার করে খোঁটা দেয়। (সহিহ মুসলিম)
যার জন্য কোনো উপকার করা হলো, সে যদি উপকারকারীকে বলে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন), তবে সে পরিপূর্ণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। (তিরমিজি)
কারো উপকার গ্রহণ করার পর তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা ঈমানের লক্ষণ। (বায়হাকি)
অকৃতজ্ঞতা বা কুফরি নিয়ামত ধ্বংস করে দেয় এবং আজাব ডেকে আনে। (মুসনাদে আহমাদ)
